বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ জুন ২০২০

বিনাহলুদ-১

 

জাতের নামঃ
বিনাহলুদ-১
জাতের বৈশিষ্ট্যঃ

একটি আধুনিক উচ্চফলনশীল জাত, প্রচলিত জাতের তুলনায় ফলন বেশী।

গাছ লম্বা আকৃতির, পাতা গাঢ় সবুজ এবং লম্বা।

পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ১২৫-১৩৫ সে.মি.।

পাতার সংখ্যা ১৬-২২ টি এবংপাতার দৈর্ঘ্য ৫৫-৬৫ সে.মি.।

প্রতি গাছে ছড়ার সংখ্যা ২৮-৩৫ টি। ছড়া ১২-১৫ সে.মি.লম্বা এবং ৩-৫ সে.মি. চওড়া।

প্রতি গাছে হলুদের ওজন ৮৫০-১০০০ গ্রাম।

শাঁস আকর্ষণীয় গাঢ় হলুদ এবং শুষ্ক পদার্থের পরিমান শতকরা ৩৮-৪৫ ভাগ।

লিফব্লচ এবং রাইজোম রট রোগ সহনশীল। বপনের ২৮০-৩০৫ দিনের মধ্যে ফলন সংগ্রহ করা যায়। জাতটির হেক্টর প্রতি ফলন প্রায় ৩০-৩৩ টন।

জমি ও মাটিঃ
বেলে-দোয়াঁশ ও পলি-দোয়াঁশ মাটি হলুদ চাষের জন্য উপযোগী। মাটি গভীরভাবে ৪-৫ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরী করতে হবে। মাটি যাতে ঝুরঝুরে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শেষ চাষের আগে ফুরাডান ৫ জি হেক্টর প্রতি ২৫-৩০ কেজি করে প্রয়োগ করতে হবে। অবশ্যই সেচ প্রয়োগ ও পানি নিষ্কাষনের ভাল ব্যবস্থা থাকতে হবে।
রোপনের সময়ঃ
সাধারনত মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে পর্যন্ত (বৈশাখের শুরু থেকে শেষ পর‌্যন্ত) হলুদের কন্দ রোপন করতে হয়। রোপনের জন্য পরিপুস্ট, চকচকে ও রোগবালাইমুক্ত কন্দ নির্বাচন করতে হবে।
বীজের হার এবং বীজ শোধনঃ
হেক্টর প্রতি ২.০-২.৫ টন কন্দের (রাইজোম) প্রয়োজন হয়। প্রায় ৫০ গ্রাম ওজন বিশিষ্ট বীজকন্দ থেকে ভাল ফলন পাওয়া যায়। বীজবাহিত বিভিন্ন রোগের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে কন্দ শোধন করে নেয়া উচিত। রোপনের ৪-৬ ঘন্টা আগে ব্যভিস্টিন/স্কোর ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে কন্দ ৩০-৪০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে, তারপর পানি থেকে কন্দ তুলে নিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে।
রোপণ পদ্ধতি ও দুরত্বঃ
জমিতে ৬০ সে.মি. পরপর সারি টেনে সারিতে ২৫ সে.মি.পরপর ৫-৭ সে.মি.গভীরে বীজকন্দ রোপণ করে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পানি সেচ ও নিষ্কাশনের জন্য দুই সারির মাঝখানে ৬০ সেমি প্রশস্ত নালা রাখতে হবে। পরবর্তীতে দুই সারির মাঝের নালা থেকে মাটি উঠিয়ে গাছের গোড়ায় দিতে হবে।
সারের পরিমান ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
হেক্টর প্রতি সারের মাত্রা; গোবর-৫ টন, ইউরিয়া-২২০ কেজি, টিএসপি-১২০ কেজি, এমপি-২২০-কেজি, জিপসাম-১০০ কেজি এবং বোরন-২ কেজি। মাটির উর্বরতার উপর ভিত্তি করে সারের পরিমান কম বেশি হতে পারে। শেষ চাষের সময় সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম, বোরন এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও অর্ধেক এমপি সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া এবং এমপি সার সমান দুই কিস্তিতে ৭০-৮০ দিন এবং ১০০-১২০ দিন পর উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্ষাঃ
হলুদের জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে, সেক্ষেত্রে জমির অবস্থা বুঝে ৩-৪ বার আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।পানি নিষ্কাশন এবং রাইজোমের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ২-৩ বার হলুদের দুই সারির মাঝে থেকে মাটি তুলে গাছের গোড়ায় দিতে হবে এতে কন্দের বৃদ্ধি ভাল হবে। মাটি শুষ্ক হলে হালকা সেচ দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে পানি কোনভাবেই জমিতে না জমে থাকে। জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। জমিতে রস সংরক্ষণ এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের জন্য মালচিং (শুকনো পাতা বা খড়) দিতে হবে। এতে করে আগাছার পরিমানও ক