মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৩ মার্চ ২০১৮

বিনাশাইল

জাতের নামঃ

 

বিনাশাইল

জাতের বৈশিষ্ট্যঃ

 

  • জাতটি চাষাবাদের জন্য স্বল্প সার ও সেচের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে উফশী জাতের তুলনায় অর্ধেক ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে চাষ করা যায়।
  • বিনাশাইলের চারা লম্বা বলে রোপন করা সুবিধা। জাতটি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল হয়েও চাষ করা সম্ভব।
  • গাছের উচ্চতা ১৪০-১৪৫ সেমি, পাতা গাঢ় সবুজ ও বড়।
  • প্রতি গুছিতে কুশির সংখ্যা ৯-১১ টি, ছড়া ২৭-২৯ সে.মি. লম্বা ও গড়ে ১৫০-১৭০ টি ধান ধরে, চিটার সংখ্যা কম।
  • বিনাশাইলের ধান মাঝারি চিকন, উজ্জ্বল রং, গড়ে লম্বায় ৭.৩ মিমি ও চওড়ায় ২.৬ মিমি
  • চালে এ্যামাইলোজের পরিমাণ ২২% ফলে ভাত সহজে নষ্ট হয় না।

জমি ও মাটিঃ

 

বলে দো-আঁশ এবং এটেল দো-আঁশ জমি বিনাশাইল চাষের উপযোগী। উঁচু জমি এ জাত চাষের জন্য উপযোগী।

জমি তৈরীঃ

 

জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য উফশী রোপা আমন জাতের মতই। 

বপণের সময়ঃ

 

বীজ তলায় বপন - আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ।

বীজ হার ঃ

 

 ভারী দেখে বীজ বাছাই করে ৫ শতাংশ বীজ তলায় ১০ কেজি বীজ বপন করলে এ চারা দিয়ে প্রায় ১ একর জমি রোপন করা যায়।

বীজ শোধন ঃ

 

প্রতি ১০ কেজি বীজে ২৫ গ্রাম ভিটাভ্যাক্স-২০০ ব্যবহার করতে হয়।

সার ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

 

প্রতি হেক্টরেঃ

বীজ তলার জন্য

উর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে বীজতলা তৈরী করলে কোনরূপ সার প্রয়োজন হয়না। অনুর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে  কেবল দুই কেজি পঁচা গোবর বা আবর্জনা সার প্রয়োগ করলেই চলে। চারা গজানোর পর গাছ হলুদ হয়ে গেলে  দু’সপ্তাহ পর প্রতি বর্গ মিটারে ৭ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের পর জমি থেকে পানি নিষ্কাশণ করা যাবেনা।

রোপা ক্ষেতের জন্য

ইউরিয়া -  ১৮০   কেজি, টিএসপি- ১২০ কেজি, এমওপি- ৭০ কেজি

প্রয়োগের নিয়মঃ

রোপার জন্য জমি তৈরীর শেষ চাষের আগে সম্পূর্ণ টিএসপি এবং এমওপি জমিতে সমভাবে ছিটিয়ে চাষের মাধ্যমে মাটির সাথে ভালভাবে  মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সারের অর্ধেক পরিমাণ চারা রোপনের ৭-৮ দিন পর, এবং বাকি অর্ধেক ৩০-৩৫ দিন পর জমির উর্বরতার উপর নির্ভর করে প্রয়োগ করতে হবে। গন্ধক ও দসত্মা ঘাটতি এলাকায় হেক্টর প্রতি জিপসাম ৫০ কেজি (একর প্রতি ২০ কেজি) এবং দসত্মা সার ১০ কেজি (একর প্রতি ৪.০৪ কেজি) হারে দেয়া যেতে পারে। ইউরিয়া সার প্রয়োগের ২/১ দিন আগে জমির  অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আগাছা দমন করতে হবে। জমির উর্বরতা ও ফসলের অবস্থার উপর নির্ভর করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ মাত্রার তারতম্য করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে টিএসপি ও দসত্মা সার একই সাথে প্রয়োগ করা যাবেনা।  তাই এক্ষেত্রে একচাষ পূর্বে টিএসপি প্রয়োগ করতে হবে এবং শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার ছিটিয়ে প্রয়োগ করা অবশ্যক।

 সেচ ও নিষ্কাশনঃ

 

জমি তৈরীর সময় ২/৩ বার স্বাদু পানি দিয়ে লবণাক্ত পানি বের করে দিলে জমির লবণাক্ততা অনেকটা কমে যায়। তাছাড়া কুশি, ফুল আসা ও পরিপক্কতার সময় লবণের মাত্রা ১০ ডিএস/মিটারের বেশী হলে স্বাদু পানি দিয়ে লবণাক্ততা কমিয়ে আনতে হবে। ধান পাকার ১০-১২ দিন আগে জমির পানি শুকিয়ে ফেলা ভাল।

আগাছা দমন ও মালচিংঃ

 

চারা রোপনের পর আগাছা দেখা দিলে নিড়ানী বা হাতের সাহায্যে আগাছা পরিষ্কার এবং মাটি নরম করে মালচিং করতে হবে ।

বালাই ব্যবস্থাপনাঃ

 

এ জাতটিতে পাতা পোড়া ও খোল পঁচা ইত্যাদি রোগের আক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশী। এছাড়া এটি প্রায় সব ধরনের পোকার আক্রমণ মোটামুটি ভালভাবে প্রতিরোধ করতে পারে।

হেক্টর প্র্তি ফলনঃ

 

গড় ফলন ৪.২  টন/হেক্টর এবং নাবি রোপায় ফলন ৩.২ টন/হেক্টর ।

উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যায় বিনাশইলএর ফলন হয় হেক্টর প্রতি ৫.০টন।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন

ধান ফসল বিশেষজ্ঞ

(সকাল ৯ টা-বিকাল ৫টা)

কল করুনঃ +8801716280720

ই-মেইলঃ mirza_islam@yahoo.com

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও পদবী

ড. মির্জা মোফাজাজল ইসলাম

মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ

বিনা, ময়মনসিংহ-2202


Share with :
Facebook Facebook